ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট

India-Africa Forum Summit (IAFS)

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর আগামী ৪র্থ ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট (IAFS-IV)-এর জন্য অফিসিয়াল লোগো, থিম এবং ওয়েবসাইট উন্মোচন করেছেন। এই সম্মেলনটি ২০২৬ সালের ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৫ সালের তৃতীয় সম্মেলনের পর দীর্ঘ দশ বছরের বিরতি শেষে এই সামিটটি পুনরায় ফিরে আসছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাছে ভারতের ভূমিকা একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে আরও মজবুত করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

. সম্মেলনের বিবর্তন

  • IAFS-I (২০০৮): এটি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়; এখানে দিল্লি ঘোষণা এবং আফ্রিকা-ভারত সহযোগিতা কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল।
  • IAFS-II (২০১১): এটি ইথিওপিয়ার আদিস আবাবায় অনুষ্ঠিত হয়; এর মূল লক্ষ্য ছিল অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধি করা।
  • IAFS-III (২০১৫): এটি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল; এতে ৫৪টি আফ্রিকান দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এক বিশাল সাড়া পাওয়া যায়।
  • IAFS-IV (২০২৬): এবারের থিম বা মূল বিষয় হলো: “IA SPIRIT: উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবর্তনের জন্য ভারতআফ্রিকা কৌশলগত অংশীদারিত্ব

. কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তার

  • মিশন সম্প্রসারণ: ২০১৮ সাল থেকে ভারত আফ্রিকায় তার কূটনৈতিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এ পর্যন্ত ১৭টি নতুন মিশন খোলা হয়েছে, যার ফলে মোট মিশনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬টি
  • G20 অন্তর্ভুক্তি: ২০২৩ সালে ভারতের সভাপতিত্বে আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU)-কে G20-এর স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ভারত আফ্রিকায় বিদেশি ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে, যেমন—তানজানিয়ায় IIT জাঞ্জিবার এবং উগান্ডায় ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্স ইউনিভার্সিটি।

. অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্তম্ভ

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: উপসাগরীয় দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতার কারণে ভারত এখন উত্তর আফ্রিকার দেশ যেমন—আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া এবং মরক্কো থেকে ফসফেট এবং গ্যাস আমদানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
  • উন্নয়ন সহায়তা: ভারত যে সহজ শর্তে ঋণ বা লাইন্স অফ ক্রেডিট (LoC) প্রদান করে, আফ্রিকা তার দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহীতা।
  • ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI): আফ্রিকান দেশগুলোকে ই-গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা তৈরিতে সাহায্য করার জন্য ভারত তার ইন্ডিয়া স্ট্যাক (যেমন: UPI, Cowin, DigiLocker) প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
  • সামুদ্রিক নিরাপত্তা: সাগর (SAGAR) নীতি এবং AFINDEX-এর মতো যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে দুই অঞ্চলের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

. “লিভিং ব্রিজবা জীবন্ত সেতু

আফ্রিকায় বসবাসরত প্রায় ৩০ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসী একটি আর্থ-সামাজিক সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তারা পুরো মহাদেশ জুড়ে বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

Q: ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট (IAFS) সম্পর্কে নিচের বক্তব্যগুলো বিবেচনা করুন:
1. প্রথম ভারত-আফ্রিকা ফোরাম সামিট ২০০৮ সালে ইথিওপিয়ার আদিস আবাবায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
2. ভারতের সভাপতিত্বের সময় আফ্রিকান ইউনিয়নকে G20-এর স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল।
3. বর্তমানে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে ভারতের ৫০টিরও বেশি পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মিশন রয়েছে।
উপরের বক্তব্যগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র 1 এবং 2
(b) শুধুমাত্র 2
(c) শুধুমাত্র 2 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
সঠিক উত্তর: (b)
সমাধান:
• 1 নম্বর বক্তব্যটি ভুল: প্রথম IAFS ২০০৮ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় সম্মেলনটি (২০১১) আদিস আবাবায় হয়েছিল।
• 2 নম্বর বক্তব্যটি সঠিক: ২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম G20 সম্মেলনে আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্য করা হয়।
• 3 নম্বর বক্তব্যটি ভুল: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় ভারতের মোট ৪৬টি কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। এটি এখনও ৫০-এর সংখ্যা অতিক্রম করেনি।