প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে কৃষি পদ্ধতিতে বৈচিত্র্য আনার এবং কৃষকদের ডাল চাষে উৎসাহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। বর্তমানের শুধু শস্য-ভিত্তিক (ধান-গম) চক্র থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই এই পদক্ষেপ। এই বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ সরকারের ২০২৫-২৬ সালের দ্বিতীয় আগাম প্রাক্কলনের (Second Advance Estimates) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে অভ্যন্তরীণ ডাল উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে আমদানির ওপর নির্ভরতা দূর করার জন্য “ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা মিশন” সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
- ডাল হলো লিগুমিনাস বা শিম্বগোত্রীয় উদ্ভিদের ভোজ্য বীজ যা কেবল শুকনো দানা হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। এগুলি Leguminosae (Fabaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
১. জলবায়ু এবং মৃত্তিকার প্রয়োজনীয়তা
- তাপমাত্রা: এগুলি ২০°সে থেকে ২৭°সে তাপমাত্রার মধ্যে ভালো জন্মায়।
- বৃষ্টিপাত: ডাল মূলত বৃষ্টি-নির্ভর ফসল, যার জন্য ২৫ সেমি থেকে ৬০ সেমি মাঝারি বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়।
- মাটির ধরন: বেলে-দোআঁশ মাটি ডাল চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, তবে লোনা বা ক্ষারীয় মাটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের জমিতেই এটি জন্মানো যায়।
- চাষের মরসুম:
- খারিফ: অড়হর (তুর), বিউলি (উরাদ), মুগ।
- গ্রীষ্মকালীন: মুগ এবং বিউলি স্বল্পমেয়াদী গ্রীষ্মকালীন ফসল হিসেবেও চাষ করা হয়।
২. পরিবেশগত এবং পুষ্টিগত গুরুত্ব
- নাইট্রোজেন সংবন্ধন: বেশিরভাগ ডালের (অড়হর বাদে) শিকড়ে গুটি বা নডিউল থাকে যাতে রাইজোবিয়াম (Rhizobium) ব্যাকটেরিয়া থাকে। এটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে মিশিয়ে দেয়, যার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক সারের প্রয়োজন কমে।
- জলের সাশ্রয়: ধান বা গমের মতো শস্যের তুলনায় ডাল চাষে অনেক কম জল লাগে।
- প্রোটিনের উৎস: ভারতীয় খাদ্যে মোট প্রোটিন গ্রহণের প্রায় ২০% থেকে ২৫% আসে ডাল থেকে, যা প্রোটিন-শক্তির অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াই করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. ডাল উৎপাদনে ভারতের অবস্থান
- বিশ্ব র্যাঙ্কিং: ভারত বিশ্বের ডালের বৃহত্তম উৎপাদক (২৫%), ভোক্তা (২৭%) এবং আমদানিকারক (১৪%)।
- উৎপাদনের পরিসংখ্যান: ২০২৫-২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, মোট উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে, যেখানে ছোলা মোট ডালের প্রায় ৫০% অংশ দখল করে আছে।
- আমদানির প্রবণতা: যদিও ২০২৬ অর্থবর্ষে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে (প্রায় ৪৫%) কমেছে, তবুও চাহিদা ও জোগানের ঘাটতি মেটাতে ভারত কানাডা, মায়ানমার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে হলুদ মটর ও মসুর ডাল সংগ্রহ করে।
- শীর্ষ উৎপাদনকারী রাজ্য (২০২৫-২৬): ১. মধ্যপ্রদেশ (বৃহত্তম উৎপাদক)। ২. রাজস্থান। ৩. মহারাষ্ট্র। ৪. উত্তরপ্রদেশ।
৪. সরকারের প্রধান উদ্যোগসমূহ
- ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা মিশন (২০২৫–২০৩১):
- বরাদ্দ: ১১,৪৪০ কোটি টাকা।
- লক্ষ্য: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৩৫০ লক্ষ টন উৎপাদন এবং ৩১০ লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ করা।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চার বছরের জন্য এমএসপি (MSP) মূল্যে তুর, বিউলি এবং মসুর ডালের ১০০% সংগ্রহের নিশ্চয়তা।
- সাথী (SATHI) পোর্টাল: ‘সিড অথেন্টিকেশন, ট্রেসেবিলিটি অ্যান্ড হোলিস্টিক ইনভেন্টরি’ পোর্টালটি উৎপাদন থেকে শংসাপত্র পর্যন্ত বীজের গুণমান নিশ্চিত করে। এটি কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল এবং জলবায়ু-সহনশীল বীজ পেতে সাহায্য করে।
- পিএম-আশা (PM-AASHA): এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) পান তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রশ্ন: ভারতে ডাল চাষের প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. খাদ্যশস্যের মতো নয়, বরং সমস্ত ডালেরই শিকড়ের গুটির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের অনন্য ক্ষমতা রয়েছে।
2. "ডাল উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা মিশন" ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরনের ডাল সংগ্রহের নিশ্চয়তা দিয়ে ১০০% স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্য রাখে।
3. গত বছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ডাল আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
উপরের বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি/কোনগুলি সঠিক?
A) কেবল ১ এবং ২
B) কেবল ৩
C) কেবল ১ এবং ৩
D) ১, ২ এবং ৩
উত্তর: B
সমাধান:
• বিবৃতি 1 ভুল: যদিও বেশিরভাগ ডাল নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে, অড়হরের মতো কিছু জাতের এই ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক কম, এবং কিছু লিগুমিনাস উদ্ভিদ মোটেও নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে না।
• বিবৃতি 2 ভুল: এই মিশনে নির্দিষ্টভাবে তুর, বিউলি এবং মসুর ডালের ১০০% সংগ্রহের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সব ধরনের ডালের জন্য নয়।
• বিবৃতি 3 সঠিক: সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের কারণে ২০২৫-২৬ সালে ডাল আমদানি প্রায় ৩৫% থেকে ৪৫% কমেছে।
Practice Today’s MCQs