প্রেক্ষাপট
মিজোরামে সাতজন বিদেশি নাগরিকের (ছয়জন ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিক) গ্রেপ্তারের পর ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে অবেষ্টিত (Unfenced) সীমান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে । অভিযোগ রয়েছে যে, তারা মায়ানমার সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র চালনা এবং ড্রোন অপারেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল ।
১. ভারত-মায়ানমার সীমান্তের ভূগোল
- মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ১,৬৪৩ কিমি ।
- সীমান্তবর্তী রাজ্য: ভারতের চারটি রাজ্য মায়ানমারের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে:
- অরুণাচল প্রদেশ
- নাগাল্যান্ড
- মণিপুর
- মিজোরাম
- বেষ্টনী বা ফেন্সিং-এর অবস্থা: বর্তমানে এই সীমান্তের বড় অংশই অবেষ্টিত। ১,৬৪৩ কিমি-এর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ৪৩.৭৫ কিমি ফেন্সিং-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে ।
২. ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (FMR)
- সংজ্ঞা: এটি ভারত ও মায়ানমার মধ্যে একটি অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল, যা সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের ভিসা ছাড়াই একে অপরের ভূখণ্ডে যাতায়াতের অনুমতি দিত ।
- ঐতিহাসিক পটভূমি: সীমান্তের উভয় পাশের মানুষের মধ্যে গভীর জাতিগত, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে ।
- সাম্প্রতিক পরিবর্তন: ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবৈধ অভিবাসন এবং বিদ্রোহী কার্যকলাপ রুখতে FMR বাতিল করার ঘোষণা দেয় ।
- বাতিলের আগে এই যাতায়াত সীমা সীমান্ত থেকে ১০ কিমি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল (যা আগে ১৬ কিমি ছিল)।
- বর্তমানে যাতায়াত ব্যবস্থা নির্দিষ্ট গেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেখানে বায়োমেট্রিক এবং গেট পাসের প্রয়োজন পড়ে ।
৩. নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ
- জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA): অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভারতের মাধ্যমে ইউরোপ থেকে মায়ানমার ড্রোন আমদানির বিষয়টি তদন্ত করার প্রধান সংস্থা ।
- আসাম রাইফেলস: এটি মায়ানমার সীমান্তের প্রধান “সীমান্ত রক্ষীবাহিনী” ।
- নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জসমূহ:
- জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী (EAGs): মায়ানমারে সক্রিয় এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো মাঝে মাঝে যাতায়াত বা লজিস্টিকসের জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে ।
- ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা: বিদ্রোহীদের ড্রোন ব্যবহারের ওপর নজরদারি রাখতে মাসিক রিপোর্টিং-সহ একটি যৌথ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে ।
- পাচার ও অভিবাসন: অবেষ্টিত সীমান্তের কারণে অবৈধ মানব পাচার এবং অভিবাসন সহজ হয়ে যায় ।
৪. মূল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তি
- স্মার্ট ফেন্সিং: এই প্রকল্পের অধীনে এমন গেট স্থাপন করা হচ্ছে যা সীমান্ত পারাপারকারী ব্যক্তিদের বায়োমেট্রিক এবং ছবি রেকর্ড করবে ।
- নির্মাণে চ্যালেঞ্জ: ফেন্সিং প্রকল্পটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের বাধা এবং মায়ানমার সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয়ের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে ।
- কার্যকর গেট: প্রস্তাবিত ৪৩টি গেটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২০টি কার্যকর রয়েছে ।
Q. ভারত-মায়ানমার সীমান্ত সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. ভারত- মায়ানমার সীমান্ত প্রায় ১,৬৪৩ কিমি দীর্ঘ এবং সম্পূর্ণভাবে ফেন্সিং বা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা ।
2. ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম (FMR) সীমান্ত উপজাতিদের ভিসা ছাড়াই পারাপারের অনুমতি দিত, কিন্তু ২০২৪ সালে তা বাতিল করা হয়েছে ।
3. জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) ড্রোন সংক্রান্ত অবৈধ আন্তঃসীমান্ত কার্যকলাপের তদন্ত করছে ।
4. আসাম রাইফেলস হলো ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পাহারার প্রধান বাহিনী ।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) কেবল 1 এবং 2
(b) কেবল 2, 3 এবং 4
(c) কেবল 1, 3 এবং 4
(d) কেবল 2 এবং 4
উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা:
• বিবৃতি 1 ভুল: ভারত-মায়ানমার সীমান্ত ১,৬৪৩ কিমি দীর্ঘ হলেও এটি সম্পূর্ণ বেষ্টিত নয় । ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত মাত্র ৪৩ কিমি অংশে ফেন্সিং হয়েছে ।
• বিবৃতি 2 সঠিক: FMR উপজাতিদের ভিসা ছাড়া পারাপারের সুযোগ দিত, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ বাতিল করা হয়েছে ।
• বিবৃতি 3 সঠিক: NIA বিদেশি নাগরিক এবং বিদ্রোহীদের ড্রোন ব্যবহারের মামলাগুলো তদন্ত করছে ।
• বিবৃতি 4 সঠিক: আসাম রাইফেলস হলো এই সীমান্তের নির্দিষ্ট "সীমান্ত রক্ষীবাহিনী" ।