জনস্বার্থ মামলা

Public Interest Litigation (PIL)

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্ন পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে সামাজিক ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৈরি করা এই আইনি হাতিয়ারটি বর্তমানে অপব্যবহৃত হচ্ছে। এটি অনেক সময় ‘ব্যক্তিগত স্বার্থ মামলা’, ‘প্রচারের স্বার্থে মামলা’, এমনকি ‘পয়সার স্বার্থে মামলা’-তে রূপান্তরিত হচ্ছে।

১. মূল ধারণা এবং উৎপত্তি

  • সংজ্ঞা: জনস্বার্থ মামলা হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী “জনস্বার্থ” রক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন।
  • উৎপত্তি: ভারতে এই ধারণার সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে বিচারপতি কৃষ্ণ আইয়ারের হাত ধরে ‘মুম্বাই কামগার সভা বনাম আব্দুল থাই’ মামলার মাধ্যমে। ১৯৮০-র দশকে বিচারপতি পি.এন. ভগবতী এবং বিচারপতি ভি.আর. কৃষ্ণ আইয়ার এটি জনপ্রিয় করে তোলেন।
  • প্রথম মামলা: ১৯৭৯ সালের ‘হুসেনারা খাতুন বনাম বিহার রাজ্য’ মামলাটিকে ভারতের প্রথম জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মূলত বিচারাধীন বন্দিদের অধিকার নিয়ে ছিল।

২. ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ (Locus Standi) নীতির ব্যতিক্রম

  • প্রথাগত নিয়ম: সাধারণত শুধুমাত্র যার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তিনিই আদালতে যেতে পারেন।
  • PIL-এর বৈশিষ্ট্য: দরিদ্র বা অক্ষম হওয়ার কারণে যারা আদালতে পৌঁছাতে পারেন না, তাদের হয়ে যেকোনো জনহিতৈষী ব্যক্তি বা সংস্থা আদালতে আবেদন করতে পারেন।
  • সুয়োমোটো (Suo Motu): আদালত সংবাদপত্রের রিপোর্ট বা চিঠির ভিত্তিতে নিজে থেকেই (সুয়োমোটো) মামলা গ্রহণ করতে পারে।

৩. সাংবিধানিক ভিত্তি এবং প্রয়োগ

  • সাংবিধানিক ধারা: PIL কোনো সংবিধিবদ্ধ আইনে সংজ্ঞায়িত নয়, বরং এটি বিচার বিভাগীয় সক্রিয়তার ফসল। এটি সুপ্রিম কোর্টে ধারা ৩২ এবং হাইকোর্টে ধারা ২২৬ অনুযায়ী দায়ের করা যায়।
  • যেসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: পরিবেশ দূষণ, বন্ধয়া শ্রমিক, শিশু অবহেলা, মহিলাদের ওপর অত্যাচার এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে এটি দায়ের করা সম্ভব।

৪. যেসব ক্ষেত্রে PIL দায়ের করা যায় না

কিছু ব্যক্তিগত বিষয় জনস্বার্থের আওতায় পড়ে না, যেমন:

  • বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত বিবাদ।
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়।
  • স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলা।
  • পেনশন বা গ্রাচুইটি সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

৫. চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক

সমস্যাবিবরণ
অহেতুক মামলাব্যক্তিগত স্বার্থে বা পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়াই দায়ের করা পিটিশন।
বিচার বিভাগীয় অতিসক্রিয়তাঅভিযোগ রয়েছে যে, PIL-এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ মাঝে মাঝে শাসন বিভাগ বা আইন বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করে।
মামলার পাহাড়অহেতুক মামলার চাপে আদালতের কাজের বোঝা এবং অমীমাংসিত মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।
প্রশ্ন: ভারতের জনস্বার্থ মামলা (PIL) প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
1. PIL যেকোনো জনহিতৈষী ব্যক্তিকে অন্যের হয়ে আদালতে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
2. PIL শুধুমাত্র ধারা ৩২-এর অধীনে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা যায়।
3. আদালত PIL-এর ক্ষেত্রে সুয়োমোটো (নিজে থেকে) পদক্ষেপ নিতে পারে।
সঠিক উত্তর কোনটি?
(a) 1 এবং 2
(b) 1 এবং 3
(c) 2 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় বিবৃতিটি ভুল কারণ PIL হাইকোর্টে ধারা ২২৬-এর অধীনেও দায়ের করা যায়।
প্রথম ও তৃতীয় বিবৃতিটি সঠিক।