প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার (RPwD) আইন, ২০১৬-এর অধীনে “অ্যাসিড হামলার শিকার” ব্যক্তিদের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করেছে। এখন থেকে যারা জোরপূর্বক অ্যাসিড পান করানোর ফলে বেঁচে গিয়েছেন, তারাও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত হবেন। এর আগে, এই আইনের তফসিলে শুধুমাত্র তাদেরই স্বীকৃতি দেওয়া হতো যারা অ্যাসিড “নিক্ষেপ”-এর কারণে বিকৃত হয়েছেন; ফলে যারা অ্যাসিড খাওয়ার কারণে গুরুতর অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতির শিকার হতেন, তারা বাদ পড়ে যেতেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই অন্তর্ভুক্তি ২০১৬ সালে আইনের সূচনা থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর ফলে এই ধরনের বেঁচে থাকা ব্যক্তিরা অবিলম্বে প্রতিবন্ধী সুবিধা এবং পরিচয়পত্র (ID card) দাবি করতে পারবেন।
১. প্রতিবন্ধিতার প্রসারিত সংজ্ঞা
- RPwD আইন, ২০১৬ পুরোনো ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তি (সমান সুযোগ, অধিকার সুরক্ষা এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ) আইন, ১৯৯৫’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
- এটি স্বীকৃত প্রতিবন্ধিতার সংখ্যা ৭টি থেকে বাড়িয়ে ২১টি করেছে।
- নতুন অন্তর্ভুক্ত বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে: অ্যাসিড হামলার শিকার, বামনত্ব (dwarfism), মাসকুলার ডিস্ট্রফি এবং থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া ও সিকল সেল ডিজিজের মতো রক্তের ব্যাধি।
- কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার আরও নতুন বিভাগ ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে।
২. বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধিতা এবং সংরক্ষণ
- বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধিতা: যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো প্রতিবন্ধিতার অন্তত ৪০% দ্বারা আক্রান্ত হন, তবে তাকে ‘বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী’ বলা হয়।
- কর্মসংস্থান: সরকারি চাকরিতে বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষণের হার ৩% থেকে বাড়িয়ে ৪% করা হয়েছে।
- শিক্ষা: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৫% আসন সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বিনামূল্যে শিক্ষা: ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধী শিশুর বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার রয়েছে।
৩. সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা
- অভ্যন্তরীণ বনাম বাহ্যিক আঘাত: আদালত রায় দিয়েছে যে “বিকৃতি” বলতে কেবল শরীরের বাইরের অংশ বোঝাবে না; অ্যাসিড পানের কারণে শরীরের ভেতরে হওয়া ক্ষত বা আঘাতও এখন থেকে এই আইনের আওতায় আসবে।
- ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ: আনুষ্ঠানিক আইনি সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি এবং আইনের তফসিলে একটি “সংশোধনী” যুক্ত করার জন্য আদালত এই অনুচ্ছেদটি ব্যবহার করেছে।
- অতীত থেকে কার্যকারিতা: অ্যাসিড পানের ফলে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এই সুযোগ-সুবিধাগুলো ২০১৬ সালের আইনের শুরু থেকেই প্রযোজ্য হবে।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
- UDID প্রকল্প: সরকার একটি জাতীয় ডেটাবেস তৈরি করতে এবং নির্বিঘ্নে সুবিধা প্রদানের জন্য ইউনিক ডিস্যাবিলিটি আইডি (UDID) কার্ড ব্যবহার করে।
- উপদেষ্টা বোর্ড: নীতি নির্ধারণের জন্য এই আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যস্তরে প্রতিবন্ধী বিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ড গঠন বাধ্যতামূলক।
- অভিযোগ প্রতিকার: চিফ কমিশনার এবং স্টেট কমিশনাররা এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অভিযোগ প্রতিকারকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করেন।
Q: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার (RPwD) আইন, ২০১৬ এবং সাম্প্রতিক বিচার বিভাগীয় ঘটনাবলি প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. এই আইন অ্যাসিড হামলার শিকার ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধিতার একটি বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা মূলত অ্যাসিড নিক্ষেপের ফলে বিকৃত ব্যক্তিদের ওপর আলোকপাত করেছিল।
2. সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে জোরপূর্বক অ্যাসিড পান করানোর শিকার ব্যক্তিদের এই আইনের সুবিধার আওতাভুক্ত করেছে, যা শুধুমাত্র রায়ের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
3. এই আইন সরকারি চাকরিতে ৫% এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪% আসন বেঞ্চমার্ক প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র 1
(b) শুধুমাত্র 1 এবং 2
(c) শুধুমাত্র 2 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
উত্তর: (a)
সমাধান:
বিবৃতি 1 সঠিক: ২০১৬ সালের আইনে 'অ্যাসিড হামলার শিকার' ব্যক্তিদের ২১টি প্রতিবন্ধী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তবে শুরুর দিকে এর ভাষা মূলত অ্যাসিড নিক্ষেপের ফলে বাইরের শরীরের বিকৃতির ওপর সীমাবদ্ধ ছিল।
বিবৃতি 2 ভুল: সুপ্রিম কোর্ট ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করলেও রায় দিয়েছে যে, এটি ২০১৬ সালে আইনের সূচনা থেকেই কার্যকর হবে, কেবল রায়ের তারিখ থেকে নয়।
বিবৃতি 3 ভুল: সংরক্ষণের হারগুলো উল্টো দেওয়া হয়েছে; আইন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে ৪% এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫% সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।