প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত ‘নর্থ টেক সিম্পোজিয়াম’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং উচ্চ-প্রযুক্তির যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতের উদ্ভাবনী শক্তি বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি শিল্পমহল এবং শিক্ষাবিদদের উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস (DEWs), হাইপারসনিক সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে ভারত যেন সামরিক কৌশলে এগিয়ে থাকতে পারে।
১. ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস (DEWs) কী?
ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তি যা শত্রু পক্ষের সরঞ্জাম বা সৈন্যদের অকেজো, ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করার জন্য সাধারণ বুলেটের পরিবর্তে ঘনীভূত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এনার্জি বা তড়িৎচৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে। এই অস্ত্রগুলো আলোর গতিতে কাজ করে, যার ফলে চোখের পলকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়।
২. DEW-এর প্রকারভেদ
- হাই-এনার্জি লেজার (HEL): এই অস্ত্রগুলো তীব্র আলোক রশ্মি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুর বাইরের আবরণ পুড়িয়ে দেয় বা সেন্সরগুলো নষ্ট করে দেয় (একে “হার্ড-কিল” বলা হয়)।
- হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (HPM): এগুলো মাইক্রোওয়েভ শক্তির ছোট ছোট স্পন্দন তৈরি করে যা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের ভেতরে ঢুকে সার্কিট নষ্ট করে দেয়। এতে লক্ষ্যবস্তুর বাহ্যিক কোনো ক্ষতি না হলেও ভেতরের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়।
- পার্টিকেল বিম ওয়েপনস: এগুলো লক্ষ্যবস্তুর ক্ষতি করতে ত্বরান্বিত সাবঅ্যাটমিক কণা (যেমন ইলেকট্রন বা প্রোটন) ব্যবহার করে। যদিও বিপুল পরিমাণ শক্তির প্রয়োজনীয়তার কারণে এগুলো এখনও মূলত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।
৩. ভারতের প্রধান DEW প্রকল্পসমূহ
| প্রকল্পের নাম | ধরণ | মূল বৈশিষ্ট্য |
| DURGA-II | হাই-এনার্জি লেজার | এর পূর্ণ রূপ হলো ‘Directionally Unrestricted Ray-Gun Array’। এটি একটি ১০০-কিলোওয়াট ক্ষমতার সিস্টেম যা স্থল, জল এবং আকাশপথে ড্রোন ও মিসাইল ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। |
| KALI | হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ | এর পূর্ণ রূপ হলো ‘Kilo Ampere Linear Injector’। এটি একটি লিনিয়ার ইলেকট্রন অ্যাক্সিলারেটর যা DRDO এবং BARC যৌথভাবে তৈরি করেছে। এটি শত্রুর স্যাটেলাইট এবং মিসাইলের ইলেকট্রনিক্স অকেজো করতে পারে। |
| Project Tri-Netra | হাই-এনার্জি লেজার | এটি কম দূরত্বের আকাশপথের প্রতিরক্ষার জন্য লেজার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার (LASTEC) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। |
৪. সুবিধা বনাম চ্যালেঞ্জ
- সাশ্রয়ী: একটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছুড়তে যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়, সেখানে লেজার থেকে একটি “শট” নিতে খরচ হয় মাত্র কয়েক টাকা (মূলত বিদ্যুতের খরচ)।
- সহজ লজিস্টিকস: এতে কোনো ভৌত গোলাবারুদ বা বুলেট জমা রাখার প্রয়োজন নেই। যতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে, ততক্ষণ এই অস্ত্রের “ম্যাগাজিন” ফুরাবে না।
- গতি এবং নির্ভুলতা: এগুলো মাধ্যাকর্ষণ বা বাতাসের দ্বারা প্রভাবিত হয় না এবং হাইপারসনিক লক্ষ্যবস্তুতে তাৎক্ষণিকভাবে আঘাত করতে পারে।
- চ্যালেঞ্জ: DEW-এর কার্যকারিতা বায়ুমণ্ডলের অবস্থার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল (কুয়াশা বা বৃষ্টি লেজার রশ্মিকে বাধা দেয়)। এছাড়া এগুলোর জন্য বিশাল বিদ্যুৎ উৎস এবং কুলিং সিস্টেমের প্রয়োজন হয়।
Q. ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনস (DEWs) প্রসঙ্গে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. হাই-এনার্জি লেজার (HEL) মূলত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফারেন্সের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সার্কিট নষ্ট করে লক্ষ্যবস্তুর ক্ষতি করে।
2. KALI (Kilo Ampere Linear Injector) হলো ভারতীয় একটি প্রকল্প যা DRDO এবং ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (BARC) যৌথভাবে তৈরি করেছে।
3. ঘন কুয়াশা এবং বৃষ্টির মতো বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা উচ্চ কম্পাঙ্কের কারণে লেজার-ভিত্তিক DEW-এর কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব ফেলে না।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র 1 এবং 2
(b) শুধুমাত্র 2
(c) শুধুমাত্র 2 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
সমাধান: (b)
বিবৃতি 1 ভুল: হাই-এনার্জি লেজার (HEL) তাপীয় প্রভাবের (পোড়ানো/গলানো) মাধ্যমে ক্ষতি করে, যেখানে হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ (HPM) ইলেকট্রনিক সার্কিট নষ্ট করে।
বিবৃতি 2 সঠিক: KALI হলো হাই-পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ তৈরির জন্য একটি লিনিয়ার ইলেকট্রন অ্যাক্সিলারেটর, যা DRDO এবং BARC-এর সহযোগিতায় তৈরি।
বিবৃতি 3 ভুল: লেজার-ভিত্তিক DEW-গুলো বায়ুমণ্ডলের অবস্থার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জলকণা (কুয়াশা/বৃষ্টি) বা ধূলিকণা আলোক রশ্মিকে ছড়িয়ে দেয়, যা এর পরিসর এবং শক্তি কমিয়ে দেয়।