ভারতের সবুজ রূপান্তর এখনও কয়লা-নির্ভর

India’s Green Transition Still Relies on a Coal Foundation

এই নিবন্ধটি পড়ার পর আপনি UPSC Mains পরীক্ষার এই মডেল প্রশ্নটির সমাধান করতে পারবেন:

India’s energy transition requires structural reforms beyond renewable capacity expansion to reduce coal dependence and ensure long-term energy security. Discuss. ১৫ নম্বর (GS-3, অর্থনীতি)

প্রাসঙ্গিকতা

  • পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য ভারতের বাহ্যিক শক্তি সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীলতা এবং এর ফলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে (vulnerability) আবারও প্রকাশ করেছে।
  • নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel) আমদানির প্রায় অর্ধেক এখনও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে পরিবাহিত হয়। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে আসা অপরিশোধিত তেল এবং কাতার থেকে আসা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) অন্তর্ভুক্ত।
  • ভারত বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরের (clean energy transition) ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর বিদ্যুৎ খাত এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রধানত কয়লার (coal) ওপর নির্ভরশীল।

ভারতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতার বিস্তার

১. ২০১৭ সাল থেকে স্থাপিত নবায়নযোগ্য সক্ষমতার বৃদ্ধি:
  • ২০১৭ সাল থেকে ভারতে নতুন বিদ্যুৎ সক্ষমতা সংযোজনের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (renewable energy) উৎসগুলো ধারাবাহিকভাবে বৃহত্তম অংশীদার হিসেবে অবদান রেখেছে।
  • পরিসংখ্যান: ২০০৫ সালের মার্চ মাসে মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ছিল মাত্র ০.৭২%, যা ২০২৬ সালের মার্চ নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২.৪%-এ। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক সক্ষমতার অংশ ৫৮.৭% থেকে কমে ৪২.২%-এ নেমে এসেছে।
২. স্থাপিত সক্ষমতা এবং প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান:
  • স্থাপিত সক্ষমতার (installed capacity) দুই-পঞ্চমাংশের বেশি নবায়নযোগ্য উৎস হওয়া সত্ত্বেও, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনের (actual electricity output) মাত্র ১৫.৮% এসেছে এই উৎসগুলো থেকে।
  • বিপরীতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনও কয়লার আধিপত্য (dominance of coal) বজায় রয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে এর অবদান ছিল ৭৬.২%, যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭১.৮%-এ।
৩. কয়লাকে প্রতিস্থাপন না করে তার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার:
  • ২০১৮ সাল থেকে ভারত জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক নতুন সক্ষমতা খুব সামান্যই যুক্ত করেছে, কিন্তু একইসাথে খুব কম সংখ্যক পুরানো কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (old coal plants) অবসর বা বন্ধ করা হয়েছে।
  • এর ফলে, বিদ্যমান কয়লা-ভিত্তিকে (coal base) না কমিয়েই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। পাশাপাশি, গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন (gas-based power) সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
  • সারসংক্ষেপ: বর্তমান জ্বালানি রূপান্তরটি বিদ্যুৎ গ্রিডকে সম্প্রসারিত করছে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর কার্বন নিঃসরণ হ্রাস (decarbonising) উল্লেখযোগ্যভাবে করতে পারছে না।

ভারতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মূল সমস্যাসমূহ

  • সৌর ও বায়ু শক্তির সবিরাম প্রকৃতি (Intermittency): সৌর প্যানেল শুধুমাত্র দিনের আলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং বায়ুকলগুলো কেবল বাতাস থাকলেই চলে। কিন্তু বিদ্যুতের চাহিদা নিরবিচ্ছিন্ন এবং সন্ধ্যার দিকে যখন সৌর উৎপাদন শূন্যে নেমে আসে, তখনই চাহিদা শীর্ষে পৌঁছায়। এই অসামঞ্জস্যের কারণে গ্রিড অপারেটররা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে স্থায়ী ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে বাধ্য হন।
  • বৃহৎ আকারের ব্যাটারি স্টোরেজের অভাব: চাহিদার শীর্ষে থাকা সময়ে ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ জমা রাখতে গ্রিড-স্কেল ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেম প্রয়োজন। ভারতে বর্তমানে এই পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে, যার ফলে ব্ল্যাকআউটের ঝুঁকি ছাড়া পুরোপুরি নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর নির্ভর করা কঠিন।
  • দুর্বল গ্রিড পরিকাঠামো এবং সঞ্চালন বাধা: ভারতের সঞ্চালন নেটওয়ার্ক এখনও রাজস্থান বা তামিলনাড়ুর মতো নবায়নযোগ্য শক্তি-সমৃদ্ধ রাজ্য থেকে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের মতো উচ্চ-চাহিদার রাজ্যে বিদ্যুৎ পাঠাতে দক্ষ নয়। এর ফলে নবায়নযোগ্য শক্তির অপচয় (curtailment) ঘটে এবং স্থানীয় কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বজায় থাকে।
  • গ্রিড স্থিতিশীলতায় কয়লার ভূমিকা: কয়লার এই নিরন্তর ভূমিকা কেবল নীতিগত ব্যর্থতা নয়, বরং এটি বর্তমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকেও প্রতিফলিত করে। কয়লা প্রয়োজনীয় বেসলোড নির্ভরযোগ্যতা (baseload reliability) এবং ভারসাম্য বজায় রাখে, যা পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও গ্রিড নমনীয়তা ছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি একা দিতে পারে না।

ভারতের ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব

  • বিদ্যুতের দাম ও তেলের বাজারের সম্পর্ক: ঐতিহাসিক প্রবণতা দেখায় যে ভারতের বিদ্যুৎ শুল্ক (electricity tariffs) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামকে অনুসরণ করে। কারণ কয়লা এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রান্তিক খরচ (marginal cost) নির্ধারণ করে। তেলের দাম বাড়লে কয়লার খরচ বাড়ে, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারের ওপর রাজস্ব চাপ (fiscal pressure) তৈরি করে।
  • চীন ও স্পেনের তুলনায় ভারতের অবস্থান: চীন উল্লেখযোগ্যভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে; তাদের বিদ্যুৎ মিশ্রণে তেল ও গ্যাসের অংশ মাত্র ৪%। এছাড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) সেখানে নতুন গাড়ি বিক্রির অর্ধেক, যা তেলের চাহিদা কমিয়েছে। একইভাবে স্পেন নবায়নযোগ্য শক্তির গভীর সংমিশ্রণের মাধ্যমে গ্যাস ও বিদ্যুতের দামের যোগসূত্র ছিন্ন করেছে। ভারত এখনও কয়লার ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক প্রভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
  • ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও অর্থনীতি: পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা বা হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন সরাসরি ভারতের শিল্প, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থার রূপান্তরের পথ

  • ব্যাটারি স্টোরেজে বড় বিনিয়োগ: ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সাশ্রয়ী গ্রিড-স্কেল ব্যাটারি স্টোরেজ। স্টোরেজ ছাড়া সবিরাম নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লাকে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।
  • গ্রিড পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ: ভারতের বিদ্যুৎ গ্রিডকে দ্বিমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ (bidirectional flow) এবং রিয়েল-টাইম চাহিদা-সরবরাহ ভারসাম্য বজায় রাখার উপযোগী করে তুলতে হবে।
  • আন্তঃরাজ্য সঞ্চালন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ: সবুজ জ্বালানি করিডোর (Green energy corridors) দ্রুত সম্প্রসারিত করতে হবে যাতে রাজস্থানের সৌরশক্তি বা তামিলনাড়ুর বায়ুশক্তি সারা দেশে পৌঁছাতে পারে।
  • বিদ্যুৎ বাজার সংস্কার: স্টোরেজ এবং নমনীয় উৎপাদsনকে উৎসাহিত করতে সময়ের ভিত্তিতে মূল্য নির্ধারণ (time-of-day pricing) এবং গ্রিন এনার্জি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মতো সংস্কার জরুরি।
  • পরিকল্পিতভাবে কয়লা কেন্দ্রের অবসর: স্টোরেজ ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে ধাপে ধাপে পুরানো ও দূষণকারী কয়লা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল প্রয়োজন।
  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের দ্রুত গ্রহণ: বিশেষ করে দুই চাকা, তিন চাকা এবং গণপরিবহনে EV-র ব্যবহার বাড়লে অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে। স্মার্ট চার্জিং ব্যবস্থা গ্রিডকেও সহায়তা করতে পারে।
  • লক্ষ্যমাত্রার সাথে পরিকাঠামোর সামঞ্জস্য: ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট (GW) অ-জীবাশ্ম জ্বালানি সক্ষমতা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৬০% অ-জীবাশ্ম বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্টোরেজ ও গ্রিড পরিকাঠামোতে সমান্তরাল বিনিয়োগ করতে হবে।

উপসংহার

ভারতের জ্বালানি রূপান্তর বর্তমানে বাস্তব কিন্তু অসম্পূর্ণ। প্রকৃত উৎপাদনে কয়লাকে প্রতিস্থাপন না করে কেবল সক্ষমতা বাড়ানো দেশটিকে আগের মতোই বৈশ্বিক সংকটের মুখে ফেলে রাখে। তাই ভারতকে জরুরিভিত্তিতে স্টোরেজ নির্মাণ, গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং বাজার সংস্কারে মনোনিবেশ করতে হবে, যাতে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রতিদিনের বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার জায়গা নিতে পারে এবং সবুজ রূপান্তরকে একটি প্রকৃত অর্থনৈতিক সাফল্যে পরিণত করা যায়।

Latest Articles