নিরাপদ চলাচলের অধিকার

Right to Safe Passage

প্রেক্ষাপট

  • সম্প্রতি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি সুয়ো মোটু (suo motu) মামলায় এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে। আদালত ঘোষণা করেছে যে, মহাসড়কে নিরাপদে যাতায়াতের অধিকার সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে থাকা বেঁচে থাকার অধিকারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
  • রাজস্থান এবং তেলেঙ্গানার মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার বিচার করার সময় বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, কোনো রাস্তা—বিশেষ করে উচ্চগতির এক্সপ্রেসওয়ে—প্রশাসনিক গাফিলতি বা পরিকাঠামোর অভাবের কারণে “বিপদের করিডোর” হয়ে উঠতে পারে না। এই রায় সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি সরকারি নীতির লক্ষ্য থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক বাধ্যতামূলক দায়িত্বে পরিণত করেছে।

১. সাংবিধানিক ভিত্তি

  • ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্প্রসারণ: আদালত বলেছে যে, বেঁচে থাকার অধিকার কেবল একটি “নেতিবাচক অধিকার” (বেআইনিভাবে হত্যা না করা) নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি “ইতিবাচক আদেশ” যাতে তারা নাগরিকের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে।
  • রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার নীতি: রাষ্ট্র যখন জাতীয় মহাসড়কের (NH) মতো পরিকাঠামো তৈরি করে, তখন সেই পরিকাঠামো যাতে জীবনের জন্য কোনো এড়িয়ে চলা সম্ভব এমন ঝুঁকি তৈরি না করে, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র সাংবিধানিকাবে বাধ্য।

২. “২% বনাম ৩০%” এর বৈপরীত্য

  • পরিসংখ্যানগত বাস্তবতা: ভারতের মোট সড়ক নেটওয়ার্কের মাত্র প্রায় ২% হলো জাতীয় মহাসড়ক
  • মৃত্যুর বোঝা: দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এত কম হওয়া সত্ত্বেও, দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় ৩০% ঘটে এই মহাসড়কগুলোতে।
  • অর্থনৈতিক প্রভাব: সড়ক দুর্ঘটনার ফলে প্রতি বছর ভারতীয় অর্থনীতির তার জিডিপি-র ৩% থেকে ৫% ক্ষতি হয়, যা মূলত সবচেয়ে কর্মক্ষম বয়সের (১৮–৪৫ বছর) মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৩. বিচার বিভাগীয় প্রধান নির্দেশিকা

জবাবদিহিতা বাড়াতে সুপ্রিম কোর্ট দেশজুড়ে বেশ কিছু অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে:

  • অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ: জাতীয় মহাসড়কের রাইট অফ ওয়ে (ROW) বা মূল সীমানার মধ্যে থাকা সমস্ত অননুমোদিত ধাবা, খাবারের দোকান বা বাণিজ্যিক স্থাপনা অবিলম্বে নিষিদ্ধ এবং অপসারণ করতে হবে।
  • কঠোর পার্কিং নিয়ম: ভারী বা বাণিজ্যিক যানবাহন রাস্তার মূল অংশে বা কাঁচা কিনারে (paved shoulders) পার্ক করা নিষিদ্ধ; তাদের অবশ্যই নির্দিষ্ট ট্রাক লে-বাই (Truck Lay-byes) বা পথের ধারের সুবিধা (WSAs) ব্যবহার করতে হবে।
  • জেলা-স্তরের দায়বদ্ধতা: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP)-এর নেতৃত্বে একটি ডিস্ট্রিক্ট হাইওয়ে সেফটি টাস্ক ফোর্স গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে নিয়মকানুন কার্যকর করা নিশ্চিত হয়।
  • জরুরি পরিষেবা: নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অ্যাম্বুলেন্স এবং রিকভারি ক্রেন মোতায়েন করতে হবে যাতে “গোল্ডেন আওয়ার” (আঘাতের পরের প্রথম এক ঘণ্টা, যখন দ্রুত চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর হয়) এর সুবিধা নেওয়া যায়।

৪. প্রযুক্তির ব্যবহার

  • অ্যাডভান্সড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ATMS): আদালত এনএইচএআই (NHAI)-কে স্পিড সেন্সর, সিসিটিভি নজরদারি এবং জরুরি কল বক্সসহ ATMS ব্যবস্থা চালু করার ওপর জোর দিয়েছে।
  • স্বয়ংক্রিয় আইন প্রয়োগ: মানুষের পক্ষপাত এবং দুর্নীতি দূর করতে ইন্টিগ্রেটেড ই-চালান তৈরির জন্য সময় চিহ্নিত (timestamped) ছবি বা প্রমাণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Q: ভারতে সড়ক নিরাপত্তার আইনি কাঠামো সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. সুপ্রিম কোর্ট সড়কে "নিরাপদ চলাচলের অধিকার"-কে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ থেকে উদ্ভূত একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
2. ভারতে জাতীয় মহাসড়কগুলো মোট রাস্তার দৈর্ঘ্যের অধিকাংশ দখল করে আছে কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার এখানে কম।
3. "গোল্ডেন আওয়ার" বলতে সেই সময়কালকে বোঝায় যে সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মোটর ভেহিকেলস (সংশোধনী) আইনের অধীনে নথিপত্রের অভাবের জন্য কোনো জরিমানা ছাড়াই চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র 1
(b) শুধুমাত্র 1 এবং 2
(c) শুধুমাত্র 2 এবং 3
(d) শুধুমাত্র 1 এবং 3
সমাধান: A
বিবৃতি 1 সঠিক: ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভবে নিরাপদ চলাচলকে ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বেঁচে থাকার অধিকারের সাথে যুক্ত করেছে।
বিবৃতি 2 ভুল: জাতীয় মহাসড়ক মোট রাস্তার মাত্র ২%, কিন্তু এখানে মৃত্যুর হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি (৩০%)।
বিবৃতি 3 ভুল: যদিও মোটর ভেহিকেলস আইনে "গোল্ডেন আওয়ার"-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, এটি মূলত গুরুতর আঘাতের পরবর্তী এক ঘণ্টা সময়কে বোঝায় যখন দ্রুত চিকিৎসা প্রাণ বাঁচানোর সর্বোচ্চ সুযোগ দেয়। উদ্ধারকারীদের আইনি ঝামেলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি গুড সামারিটান (Good Samaritan) নির্দেশিকার অংশ, গোল্ডেন আওয়ারের সংজ্ঞা নয়।

Latest Articles