প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি, সরকারের “জিরো কোল লিকেজ প্ল্যান (Zero Coal Leakage Plan)”-এর আওতায় কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF) ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পরিচালিত পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযানে ৪২৮ মেট্রিক টনেরও বেশি অবৈধভাবে উত্তোলিত কয়লা উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ [Mines and Minerals (Development and Regulation) Act, 1957 – MMDR Act]-এর অধীনে চারটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
“জিরো কোল লিকেজ” উদ্যোগ
- উদ্দেশ্য: সমন্বিত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ কয়লা খনন, পরিবহনজনিত ক্ষতি (Transit Loss), কয়লা চুরি এবং অননুমোদিত কয়লা পাচার সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা।
- নোডাল সংস্থা: এই উদ্যোগটি কয়লা মন্ত্রক (Ministry of Coal), স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য জেলা প্রশাসন এবং কয়লা ইন্ডিয়া লিমিটেড (Coal India Limited – CIL)-এর অধীনস্থ কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (CPSUs)—যেমন BCCL, ECL এবং CCL—এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।
- প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ: কয়লা সরবরাহ শৃঙ্খলকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য এই পরিকল্পনায় ড্রোন নজরদারি, GPS-সক্ষম পরিবহন রুট পর্যবেক্ষণ, রিয়েল-টাইম ই-ওয়ে বিল যাচাই এবং ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (Integrated Command and Control Centres)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইনি ও বিধিবদ্ধ কাঠামো: খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act)
- অবৈধ খননের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act)-এর বিধান অনুযায়ী গ্রহণ করা হয়।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্ষমতায়ন: MMDR আইনের নির্দিষ্ট ধারাসমূহ (ধারা ২২, ২৩বি এবং ২৪) অনুযায়ী, CISF এবং কয়লা কোম্পানির অনুমোদিত কর্মকর্তারা অবৈধভাবে পরিবাহিত খনিজ বা যানবাহন তল্লাশি, জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের (Prosecution) করার আইনগত ক্ষমতা ভোগ করেন।
- সাংবিধানিক এখতিয়ার (কেন্দ্র বনাম রাজ্য):
- ভারতীয় সংবিধানের সপ্তম তফসিল (Seventh Schedule) অনুযায়ী, খনি ও খনিজ উন্নয়নের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় তালিকার (Union List) এন্ট্রি ৫৪ এবং রাজ্য তালিকার (State List) এন্ট্রি ২৩—উভয়ের অধীন।
- প্রধান খনিজ (Major Minerals)—যেমন কয়লা, লিগনাইট ও লৌহ আকরিক (Iron Ore)—এর নিয়ন্ত্রণ MMDR Act-এর অধীনে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত।
- গৌণ খনিজ (Minor Minerals)—যেমন বালি, নুড়ি (Gravel) ও কাদামাটি (Clay)—সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক অধিক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।
- আমলযোগ্য অপরাধ (Cognizable Offences): MMDR আইনের সংশোধনের মাধ্যমে অবৈধ খনন, বেআইনি অনুপ্রবেশ (Trespassing) এবং অননুমোদিত খনিজ মজুত-কে আমলযোগ্য (Cognizable) অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও, অবৈধ খনন সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ আদালত (Special Courts) গঠন করতে পারে।
প্রধান কয়লাক্ষেত্রগুলির বণ্টন
- ভারত কোকিং কোল লিমিটেড (BCCL): প্রধানত ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ অঞ্চলে (যা “ভারতের কয়লা রাজধানী” নামে পরিচিত) কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL): পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র এবং ঝাড়খণ্ডের রাজমহল কয়লাক্ষেত্র জুড়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- সেন্ট্রাল কোলফিল্ডস লিমিটেড (CCL): প্রধানত ঝাড়খণ্ডের রাঁচি, বোকারো এবং করণপুরা কয়লাক্ষেত্র অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ভারতে খনিজ শাসন (Mineral Governance) সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
I. খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act)-এর অধীনে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর তল্লাশি (Search) ও জব্দ (Seizure)-এর আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।
II. গৌণ খনিজ (Minor Minerals)-এর অবৈধ খনন রোধে নিয়ম প্রণয়নের একচেটিয়া ক্ষমতা রাজ্য সরকারের রয়েছে।
উপরোক্ত বিবৃতিগুলির মধ্যে কোনটি সঠিক?
উত্তর: I এবং II—উভয়ই সঠিক।
ব্যাখ্যা
• বিবৃতি I সঠিক: সরকারের "জিরো কোল লিকেজ" উদ্যোগের অংশ হিসেবে CISF খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫৭ (MMDR Act)-এর বিধান অনুযায়ী অবৈধ কয়লা খনন, চুরি এবং অননুমোদিত পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এই অভিযানে CISF অবৈধভাবে পরিবাহিত কয়লা উদ্ধার, হাইভা ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন জব্দ এবং প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (FIR) দায়েরের মতো তল্লাশি ও জব্দের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।
• বিবৃতি II সঠিক: এটি ভারতের খনিজ শাসন ব্যবস্থার একটি মৌলিক সাংবিধানিক নীতি। কেন্দ্রীয় সরকার MMDR Act, 1957-এর অধীনে প্রধান খনিজ (Major Minerals)—যেমন কয়লা—নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, একই আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী রাজ্য সরকার গৌণ খনিজ (Minor Minerals)—যেমন বালি, নুড়ি ও কাদামাটি—সংক্রান্ত নিয়ম প্রণয়ন, অবৈধ খনন ও অবৈধ পরিবহন প্রতিরোধের জন্য বিধি তৈরির ক্ষমতা ভোগ করে।