প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি লোহিত সাগর অঞ্চলে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (খাতাম আল-আম্বিয়া) সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলো নৌ-অবরোধ করা চালিয়ে যায়, তবে তারা বাব আল–মান্দেব প্রণালী এবং হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণরূপে বন্ধ” করে দেবে।
১. লোহিত সাগর
লোহিত সাগর হলো ভারত মহাসাগরের একটি সরু জলভাগ, যা আফ্রিকা এবং আরব উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
তীরবর্তী দেশসমূহ (উপকূলীয় রাষ্ট্র):
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব, ইয়েমেন।
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি।
- উত্তর প্রান্ত: সিনাই উপদ্বীপ, আকাবা উপসাগর এবং সুয়েজ উপসাগর (যা সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত) দ্বারা বেষ্টিত।
ভৌত বৈশিষ্ট্য: উচ্চ বাষ্পীভবন হার এবং নদী থেকে স্বাদু পানির প্রবাহ কম হওয়ার কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম উষ্ণ এবং লবণাক্ত জলভাগ।
ভূতাত্ত্বিক উৎপত্তি: এটি গ্রেট রিফট ভ্যালির অংশ এবং আরবীয় ও আফ্রিকান টেকটোনিক প্লেটের বিচ্যুতির ফলে গঠিত হয়েছিল।
২. বাব আল–মান্দেব প্রণালী
এটি “অশ্রুর দুয়ার“ (বাব আল-মান্দেব) নামে পরিচিত। এটি হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যবর্তী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান।
- সংযোগ: এটি উত্তর-পশ্চিমে লোহিত সাগরকে দক্ষিণ-পূর্বে এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে যুক্ত করে।
- সীমান্তবর্তী দেশ: এটি আরব উপদ্বীপের ইয়েমেনকে আফ্রিকার জিবুতি এবং ইরিত্রিয়া থেকে পৃথক করেছে।
- প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই প্রণালীটি ইয়েমেনের মালিকানাধীন পেরিম দ্বীপ (মায়ুন দ্বীপ) দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত। পশ্চিমের চ্যানেলটি প্রশস্ত এবং গভীর, যা বড় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে সুবিধা প্রদান করে।
কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
১. বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র
লোহিত সাগর-সুয়েজ খাল-বাব আল-মান্দেব করিডোর হলো ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সংক্ষিপ্ততম সামুদ্রিক পথ। যদি এই পথটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার চারপাশ দিয়ে অতিরিক্ত ৬,০০০ নটিক্যাল মাইল পথ ভ্রমণ করতে হবে, যা যাতায়াতের সময় ১৪ থেকে ২০ দিন বাড়িয়ে দেয়।
২. জ্বালানি নিরাপত্তা
পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপীয় এবং আমেরিকান বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এখানে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে বেড়ে যায়।
৩. ভারতের জন্য গুরুত্ব
- রপ্তানি: ইউরোপ এবং আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ভারতের রপ্তানির ৫০% এরও বেশি এই রুট দিয়ে যায়।
- জ্বালানি: ভারত তার তেলের বড় অংশ রাশিয়া এবং পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পেলেও, পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম রপ্তানির জন্য লোহিত সাগর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- নিরাপত্তা: ভারতীয় নৌবাহিনী প্রায়ই এই অঞ্চলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে রক্ষা করার জন্য “জলদস্যু বিরোধী” এবং “সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান” (যেমন অপারেশন সংকল্প) পরিচালনা করে।
Q. লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূগোল সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. লোহিত সাগর বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত।
2. ইথিওপিয়া হলো অন্যতম উপকূলীয় দেশ যার সাথে লোহিত সাগরের সরাসরি উপকূলরেখা রয়েছে।
3. বাব আল-মান্দেব প্রণালী আরব উপদ্বীপকে হর্ন অব আফ্রিকা থেকে আলাদা করে।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কোনটি/কোনগুলো সঠিক?
(a) শুধুমাত্র 1 এবং 2
(b) শুধুমাত্র 3
(c) শুধুমাত্র 1 এবং 3
(d) 1, 2 এবং 3
উত্তর: (b) শুধুমাত্র 3
সমাধান:
বিবৃতি 1 ভুল: লোহিত সাগর সুয়েজ খালের (উত্তর) মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের (দক্ষিণ) সাথে যুক্ত করে।
বিবৃতি 2 ভুল: ইথিওপিয়া একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীনতা লাভ করলে ইথিওপিয়া তার লোহিত সাগরের উপকূলরেখা হারায়। উপকূলীয় দেশগুলো হলো মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া, জিবুতি, সৌদি আরব এবং ইয়েমেন।
বিবৃতি 3 সঠিক: বাব আল-মান্দেব প্রণালী ইয়েমেন (আরব উপদ্বীপ) এবং জিবুতি/ইরিত্রিয়ার (হর্ন অব আফ্রিকা) মধ্যে সামুদ্রিক সীমানা হিসেবে কাজ করে।