ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC) এবং বিশ্ব স্বর্ণবাজারের প্রেক্ষাপট

World Gold Council (WGC)

প্রেক্ষাপট

  • সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC) ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের (জানুয়ারি থেকে মার্চ) তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে যে, ভারতে স্বর্ণের মোট চাহিদা বার্ষিক ভিত্তিতে ১০% বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০.৬ টনে পৌঁছেছে। তবে ভোক্তাদের আচরণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে: স্বর্ণের উচ্চ মূল্যের কারণে অলঙ্কারের চাহিদা ১৯% হ্রাস পেলেও বিনিয়োগের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • বিশেষ করে স্বর্ণের ETF (Exchange-Traded Fund) চাহিদা ১৯৭% এবং বার ও কয়েনের চাহিদা ৩৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা এবং রেকর্ড মূল্যের মাঝেও স্বর্ণ একটি কৌশলগত ‘নিরাপদ আশ্রয়’ (safe-haven asset) হিসেবে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

১. সংক্ষিপ্ত পরিচয় এবং উৎপত্তি

  • ধরন: WGC হলো স্বর্ণ শিল্পের একটি বাজার উন্নয়নকারী সংস্থা। এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ খনি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একটি অলাভজনক সংস্থা।
  • প্রতিষ্ঠা: এটি ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত।
  • কার্যালয়: ভারত (মুম্বাই), চীন, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর বৈশ্বিক কার্যালয় রয়েছে।

২. প্রধান লক্ষ্য এবং কার্যাবলী

  • চাহিদা বৃদ্ধি: গবেষণা, বিপণন এবং লবিংয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের চাহিদা তৈরি ও তা বজায় রাখা এই সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য।
  • মান নির্ধারণ: একটি দায়িত্বশীল এবং টেকসই স্বর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির জন্য এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীদারদের সাথে কাজ করে।
  • গবেষণা ও তথ্য: এটি বিশ্বব্যাপী স্বর্ণ সংক্রান্ত তথ্যের সবথেকে নির্ভরযোগ্য উৎস। এদের প্রকাশিত ‘গোল্ড ডিমান্ড ট্রেন্ডস’ (Gold Demand Trends) রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন।
  • আর্থিক উদ্ভাবন: বিশ্বের প্রথম গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF) তৈরিতে এই কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা স্বর্ণবাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

৩. সদস্যপদ এবং নেতৃত্ব

  • সদস্য: বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এবং আধুনিক মনস্ক স্বর্ণ খনি সংস্থাগুলো (যেমন ব্যারি গোল্ড, নিউমন্ট) এর সদস্য।
  • নেতৃত্ব: ২০২৬ সালের শুরু থেকে সংস্থাটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিইও ডেভিড টেইট। তিনি স্বর্ণকে আরও বেশি আর্থিক সম্পদে রূপান্তর এবং বৈশ্বিক পুঁজি বাজারের সাথে একে সংযুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

৪. WGC এবং ভারত

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণ ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের স্বর্ণ ব্যবস্থায় WGC-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • নীতিগত সহায়তা: সংস্থাটি ভারত সরকারের সাথে সোভেরেন গোল্ড বন্ড (SGB) স্কিম এবং গোল্ড মানিটাইজেশন স্কিম-এর মতো উদ্যোগে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।
  • ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল বুলিয়ন এক্সচেঞ্জ (IIBX): গিফট সিটিতে (GIFT City) ভারতের প্রথম বুলিয়ন এক্সচেঞ্জ স্থাপনে কারিগরি দক্ষতা প্রদান করেছে, যাতে ভারত শুধু দাম গ্রহণকারী দেশ নয় বরং দাম নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
  • পুনর্ব্যবহার (Recycling): ২০২৬ সালের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৪র্থ বৃহত্তম স্বর্ণ পুনর্ব্যবহারকারী দেশ, যা স্বর্ণ খাতে একটি সংগঠিত চক্রাকার অর্থনীতির বিকাশকে প্রতিফলিত করে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC) সম্পর্কে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি-I: ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল হলো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে একটি আন্তঃসরকারি সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের দাম নিয়ন্ত্রণ করে।
বিবৃতি-II: WGC-র ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য স্বর্ণের চাহিদাকে আরও প্রসারিত করেছে।
নিচের কোনটি সঠিক?
(ক) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I-এর সঠিক ব্যাখ্যা।
(খ) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II হলো বিবৃতি-I-এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
(গ) বিবৃতি-I সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II ভুল।
(ঘ) বিবৃতি-I ভুল কিন্তু বিবৃতি-II সঠিক।
উত্তর: (ঘ)
সমাধান:
• বিবৃতি I ভুল: ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল কোনো আন্তঃসরকারি সংস্থা বা WTO-র অংশ নয়; এটি স্বর্ণ উৎপাদকদের একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা। এটি দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং চাহিদা ও বাজারের মানকে প্রভাবিত করে।
• বিবৃতি II সঠিক: সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ) ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে।