চাবাহার বন্দর এবং INSTC

Chabahar Port & INSTC

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে, কারণ চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের (US sanctions waiver) মেয়াদ গত রবিবার শেষ হয়েছে। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রক বর্তমানে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের সাথেই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। বর্তমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটন এই ছাড়ের মেয়াদ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা কম থাকায়, নয়াদিল্লি বিকল্প পথ খুঁজছে। এর মধ্যে একটি সম্ভাব্য উপায় হলো শহিদ বেহেস্তি টার্মিনালে ভারতের অংশীদারিত্ব কোনো ইরানি সংস্থাকে হস্তান্তর করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের স্থায়িত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় কার্যক্রমকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে রক্ষা করা যায়।

১. চাবাহার বন্দর: কৌশলগত দিক

  • অবস্থান: এটি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত এবং ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত।
  • প্রধান টার্মিনাল: এই বন্দরে দুটি প্রধান টার্মিনাল রয়েছে: শহিদ বেহেস্তি (যা ভারত দ্বারা উন্নত করা হয়েছে) এবং শহিদ কালান্তারি
  • ভারতের ভূমিকা: ২০২৪ সালের মে মাসে স্বাক্ষরিত একটি দীর্ঘমেয়াদী ১০ বছরের চুক্তির অধীনে ভারত ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL)-এর মাধ্যমে শহিদ বেহেস্তি টার্মিনালটি পরিচালনা করছে।
  • পাকিস্তানকে এড়িয়ে চলা: এটি ভারতকে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় পৌঁছানোর জন্য একটি সরাসরি সামুদ্রিক পথ প্রদান করে, যা পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহারের বিধিনিষেধকে কার্যকরভাবে এড়িয়ে চলে।
  • গ্বদর বন্দরের সান্নিধ্য: এটি পাকিস্তানের গ্বদর বন্দর (যা চীন তৈরি করছে) থেকে পশ্চিমে মাত্র ১৭০ কিমি দূরে অবস্থিত, যা ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

২. ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC)

  • ধারণা: এটি ভারত, ইরান, আজারবাইজান, রাশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে পণ্য চলাচলের জন্য জাহাজ, রেল এবং সড়কপথের একটি ৭,২০০ কিমি দীর্ঘ বহুমুখী (multi-modal) নেটওয়ার্ক
  • প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত, রাশিয়া এবং ইরান মিলে এটি প্রতিষ্ঠা করে।
  • সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি: বর্তমানে এটিতে ১৩টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন— আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুরস্ক, ইউক্রেন, বেলারুশ, ওমান এবং সিরিয়া (বুলগেরিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে)।
  • প্রধান রুট:
    • সামুদ্রিক পথ: মুম্বাই (ভারত) থেকে বান্দর আব্বাস বা চাবাহার (ইরান)।
    • স্থলপথ: সড়ক বা রেলপথে ইরান অতিক্রম করে কাস্পিয়ান সাগরের বন্দর বান্দর-ই-আনজালি পর্যন্ত।
    • সামুদ্রিক পথ: কাস্পিয়ান সাগর হয়ে রাশিয়ার আস্ট্রাখান পর্যন্ত।
    • রেলপথ: সেখান থেকে মস্কো এবং উত্তর ইউরোপ পর্যন্ত।

৩. তুলনামূলক সুবিধা: INSTC বনাম সুয়েজ খাল

বৈশিষ্ট্যসুয়েজ খাল রুটINSTC রুট
দূরত্বপ্রায় ১৬,০০০ কিমিপ্রায় ৭,২০০ কিমি
যাতায়াতের সময়৪০–৪৫ দিন২০–২৫ দিন
পণ্য পরিবহন খরচসাধারণ৩০% কম
সময় সাশ্রয়ভিত্তি মান (Baseline)৪০% দ্রুততর
Q. ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (INSTC) সম্পর্কিত নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. এটি একটি বহুমুখী পরিবহন নেটওয়ার্ক যার লক্ষ্য ভারত মহাসাগর এবং পারস্য উপসাগরকে কাস্পিয়ান সাগর এবং উত্তর ইউরোপের সাথে যুক্ত করা।
2. তুর্কমেনিস্তান এবং উজবেকিস্তান ছিল ভারত ও রাশিয়ার সাথে মূল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।
3. এই করিডোরটির লক্ষ্য হলো সুয়েজ খাল রুটের তুলনায় মুম্বাই এবং মস্কোর মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনা।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কতটি সঠিক?
(a) শুধুমাত্র একটি
(b) শুধুমাত্র দুটি
(c) তিনটিই সঠিক
(d) একটিও নয়
উত্তর: (b) শুধুমাত্র দুটি
সমাধান:
• বিবৃতি 1 সঠিক: INSTC হলো একটি ৭,২০০ কিমি দীর্ঘ বহুমুখী করিডোর যা ভারত মহাসাগর/পারস্য উপসাগরকে কাস্পিয়ান সাগরের মাধ্যমে রাশিয়া এবং ইউরোপের সাথে যুক্ত করে।
• বিবৃতি 2 ভুল: ২০০০ সালে মূল প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ভারত, রাশিয়া এবং ইরান। অন্যান্য মধ্য এশীয় দেশগুলো পরে যোগ দিলেও তারা প্রাথমিক স্বাক্ষরকারী ছিল না।
• বিবৃতি 3 সঠিক: সুয়েজ খাল দিয়ে যেখানে ৪০–৪৫ দিন সময় লাগে, সেখানে INSTC রুটে সময় লাগে ২০–২৫ দিন, যা প্রায় ৪০-৫০% সময় কমিয়ে দেয়।