প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি, ভারত গুজরাটের কান্দলায় অবস্থিত দীনদয়াল পোর্ট অথরিটি (DPA)-তে তার প্রথম গ্রিন মিথানল প্ল্যান্ট চালু করতে প্রস্তুত। এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এতে ফিডস্টক (কাঁচামাল) হিসেবে প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা (Prosopis juliflora) ব্যবহার করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এটি একটি অতি আক্রমণাত্মক আগাছা যা কচ্ছের বান্নি তৃণভূমির জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO)-এর নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বিশ্বব্যাপী জাহাজ শিল্পকে প্রচলিত বাঙ্কার অয়েলের পরিবর্তে মিথানলের মতো সবুজ জ্বালানির দিকে অগ্রসর হতে বলা হয়েছে।
প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- অবস্থান: দীনদয়াল পোর্ট অথরিটি (DPA), কান্দলা, গুজরাট।
- উৎপাদন ক্ষমতা: এই পাইলট প্ল্যান্টটি প্রতিদিন পাঁচ টন মিথানল উৎপাদন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- উন্নয়নকারী: এই সুবিধাটি পুনে-ভিত্তিক থার্মাক্স এনার্জি তৈরি করছে এবং এতে ভাদোদরা-ভিত্তিক অঙ্কুর সায়েন্টিফিক-এর গ্যাসিফিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
- ফিডস্টক (কাঁচামাল): প্ল্যান্টটি প্রধানত প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা (কচ্ছের আগাছা) ব্যবহার করে এবং এটি অন্যান্য কৃষি অবশিষ্টাংশ যেমন আখের ছোবড়া এবং তুলোর ডালও প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।
প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা: আক্রমণাত্মক কাঁচামাল
- উৎপত্তি এবং প্রচলন: প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা হল মেক্সিকান বংশোদ্ভূত একটি গুল্ম। এটি ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশরা দিল্লিকে সবুজ করার জন্য এবং পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে গুজরাট বন বিভাগ কচ্ছের রণ-এ লবণের মরুভূমির বিস্তার রোধ করার জন্য ভারতে এনেছিল।
- আক্রমণাত্মক প্রকৃতি: এটি বিশ্বের “শীর্ষ ১০০টি আক্রমণাত্মক প্রজাতির” মধ্যে স্থান পেয়েছে এবং হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে দেশীয় ঘাসকে হটিয়ে দিয়েছে, যা বান্নি তৃণভূমির জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।
- স্থানীয় নাম: ভারতে এটি গুজরাটে গাণ্ডো বাওয়াল, উত্তর ভারতে বিলায়তি কিকর এবং তামিলনাড়ুতে সীমাই কারুভেলাম নামে পরিচিত।
- কাঁচামাল হিসেবে সম্ভাবনা: এটি গ্রিন মিথানলের জন্য একটি আদর্শ কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত কারণ এটি একটি ঘন শক্ত কাঠ যার শক্তির প্রোফাইল উচ্চ এবং অ্যাসিডের পরিমাণ কম।
গ্রিন মিথানল উৎপাদন প্রক্রিয়া
- প্রচলিত মিথানলের সাথে তুলনা: প্রচলিত মিথানল প্রাকৃতিক গ্যাস বা কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে তৈরি করা হয়, যেখানে গ্রিন মিথানল জৈববস্তু (বায়োমাস) বা কৃষি অবশিষ্টাংশের মতো নবায়নযোগ্য কাঁচামাল থেকে তৈরি হয়।
- দুই ধাপের গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়া:
- গ্যাসিফিকেশন: অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে জৈববস্তুকে উত্তপ্ত করা হয় যাতে এটি সিনগ্যাস (syngas)-এ (হাইড্রোজেন, কার্বন মনোক্সাইড এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মিশ্রণ) পরিণত হয়।
- রূপান্তর: এরপর সিনগ্যাসকে রাসায়নিকভাবে তরল মিথানলে রূপান্তরিত করা হয়, যা জাহাজে ঐতিহ্যবাহী “বাঙ্কার অয়েল”-এর সরাসরি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
- পরিবেশগত সুবিধা: মিথানল ইনস্টিটিউটের মতে, গ্রিন মিথানল ব্যবহার করলে একটি জাহাজের CO2 নির্গমন ৯৫% পর্যন্ত, নাইট্রোজেন অক্সাইড ৮০% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে এবং সালফার অক্সাইড ও ক্ষুদ্র কণা (পার্টিকুলেট ম্যাটার) কার্যত নির্মূল করা সম্ভব।
কৌশলগত গুরুত্ব
- সামুদ্রিক গ্রিন পোর্ট: এই উদ্যোগটি ভারত সরকারের পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলোকে “গ্রিন পোর্ট” বা সবুজ বন্দরে রূপান্তর করার নীতির সাথে সংগতিপূর্ণ, যাতে বিশ্বব্যাপী জাহাজ শিল্পের কার্বনমুক্ত করার মানদণ্ড পূরণ করা যায়।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: জ্বালানি হিসেবে কৃষি অবশিষ্টাংশ এবং আক্রমণাত্মক প্রজাতির ব্যবহার ভারতের তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হ্রাস করতে পারে।
- জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার: প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা-র বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি করার মাধ্যমে, এই প্রকল্পটি আক্রমণাত্মক প্রজাতি পরিষ্কার করার একটি কার্যকর পদ্ধতি প্রদান করে এবং দেশীয় বাস্তুতন্ত্রকে পুনরোজ্জীবিত হতে সাহায্য করে।
| মিথানল অর্থনীতির ধারণা ভারতের তেল আমদানি বিল এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে নীতি আয়োগ (NITI Aayog) “মিথানল ইকোনমি” কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মিশ্রণ: পেট্রোলে ১৫% মিথানল মেশালে (M-15) অপরিশোধিত তেল আমদানি ১৫% কমানো সম্ভব।জাহাজ ও রেল: মিথানল একটি উচ্চ-ঘনত্বের শক্তি বাহক, যা সামুদ্রিক জ্বালানি এবং রেল ইঞ্জিনের জন্য আদর্শ।বর্জ্য থেকে সম্পদ: এটি উচ্চ-ছাই যুক্ত কয়লা, পৌরসভার কঠিন বর্জ্য এবং কৃষি অবশিষ্টাংশকে মূল্যবান জ্বালানিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। |
Q: ভারতে গ্রিন মিথানল উৎপাদনের প্রেক্ষাপটে, নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
বিবৃতি-I: আক্রমণাত্মক আগাছা প্রজাতিকে সামুদ্রিক জ্বালানিতে রূপান্তর করার জন্য কান্দলায় ভারতের প্রথম গ্রিন মিথানল প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে।
বিবৃতি-II: নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রকের (MNRE) মতে, গ্রিন মিথানলের মোট কার্বন নির্গমন সীমা প্রতি কেজি মিথানলে ০.৩৮ কেজি CO2 সমতুল্যের বেশি হওয়া উচিত নয়।
উপরের বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে নিচের কোনটি সঠিক?
(a) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক এবং বিবৃতি-II হল বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা।
(b) বিবৃতি-I এবং বিবৃতি-II উভয়ই সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II বিবৃতি-I এর সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
(c) বিবৃতি-I সঠিক কিন্তু বিবৃতি-II ভুল।
(d) বিবৃতি-I ভুল কিন্তু বিবৃতি-II সঠিক।
উত্তর: (c)
সমাধান:
বিবৃতি I সঠিক: প্রথম গ্রিন মিথানল প্ল্যান্টটি প্রকৃতপক্ষে দীনদয়াল পোর্টে (কান্দলা) অবস্থিত এবং এটি জাহাজ জ্বালানির কাঁচামাল হিসেবে প্রোসোপিস জুলিফ্লোরা (একটি আক্রমণাত্মক আগাছা) ব্যবহার করে।
বিবৃতি II ভুল: MNRE-এর বিজ্ঞপ্তি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) অনুযায়ী, গ্রিন মিথানলের সীমা হল ০.৪৪ কেজি CO2 eq/kg। বিবৃতিতে উল্লিখিত ০.৩৮ কেজি সীমাটি আসলে গ্রিন অ্যামোনিয়ার মানদণ্ডকে নির্দেশ করে।