কানা টাইগার রিজার্ভ

Kanha Tiger Reserve

প্রেক্ষাপট

সম্প্রতি, কানা টাইগার রিজার্ভ (KTR) সংবাদে উঠে এসেছে। এর কারণ হলো, রিজার্ভের সারহি (Sarhi) রেঞ্জে একটি বাঘিনী এবং তার চারটি শাবকের মর্মান্তিক মৃত্যু। এই ঘটনা রাজ্য বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV) সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে তদন্ত করতে বাধ্য করেছে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রদেশে বাঘের ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর তালিকায় এই ঘটনাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া, রিজার্ভের মূল এলাকায় (core areas) বেওয়ারিশ কুকুরের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই কুকুরগুলোই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে।

কানা টাইগার রিজার্ভের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

১. অবস্থান ও ভূগোল
  • এই রিজার্ভটি মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডলা (Mandla) এবং বালাঘাট (Balaghat) জেলায় সাতপুরা পর্বতমালার মাইকাল রেঞ্জে (Maikal range) অবস্থিত।
  • এটি প্রায় ৯৪০ বর্গ কিলোমিটার কোর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত, যা একে মধ্য ভারতের বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান করে তুলেছে।
  • এখানকার ভূখণ্ড দেখতে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো এবং এটি মূলত দুটি প্রধান সংরক্ষিত এলাকায় বিভক্ত: হ্যালন (Hallon) এবং বানজার (Banjar)
  • এই রিজার্ভটি কানা-পেঞ্চ করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে, যা মধ্য ভারতের বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে বাঘের চলাচলে সহায়তা করে।

২. গাছপালা ও বনভূমি (Flora)

  • এখানকার বনভূমি শাল (Sal) এবং অন্যান্য মিশ্র পর্ণমোচী গাছের এক বৈচিত্র্যময় সমন্বয়।
  • উদ্যানজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বিশাল খোলা তৃণভূমি, যা স্থানীয়ভাবে ‘ময়দান’ নামে পরিচিত। এই তৃণভূমিগুলো বড় তৃণভোজী প্রাণীদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
  • উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ক্রান্তীয় আর্দ্র এবং শুষ্ক পর্ণমোচী বন দেখা যায়, যার ঢালগুলোতে প্রায়ই বাঁশবন লক্ষ্য করা যায়।
৩. প্রাণিকুল ও সংরক্ষণের সাফল্য
  • হার্ড-গ্রাউন্ড বারাসিংহা (জলাভূমির হরিণ): বিলুপ্তির মুখ থেকে এই বিশেষ প্রজাতির হরিণকে (Cervus duvauceli branderi) বাঁচানোর জন্য কানা বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এটি বিশ্বের একমাত্র স্থান যেখানে এই নির্দিষ্ট উপ-প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে টিকে আছে।
  • ম্যাসকট (Mascot): ২০১৭ সালে, কানা ভারতের প্রথম টাইগার রিজার্ভ হিসেবে একটি অফিসিয়াল ম্যাসকট চালু করে, যার নাম দেওয়া হয় “ভুরসিং দ্য বারাসিংহা” (Bhoorsingh the Barasingha)।
  • প্রধান প্রজাতিসমূহ: বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও এখানে ভারতীয় চিতাবাঘ, ভল্লুক (Sloth Bear), বুনো কুকুর (Dhole), গাউর (ভারতীয় বাইসন) এবং সাম্বার হরিণ পাওয়া যায়।
  • সংরক্ষণ উদ্যোগ: এতিম বাঘের শাবকদের সফলভাবে পুনরায় বনে ফিরিয়ে দেওয়া এবং বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভে ‘গাউর’ স্থানান্তরের কৃতিত্ব এই উদ্যানের রয়েছে।
ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস (CDV) ভাইরাসের প্রকৃতি: এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা প্যারামিক্সোভাইরাস (paramyxovirus) দ্বারা সৃষ্ট। এটি মানুষের হামের (measles) ভাইরাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।বহু-অঙ্গ আক্রমণ: এই ভাইরাসটি একই সাথে প্রাণীর শ্বসনতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানে, যার ফলে এটি অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে ওঠে।সংক্রমণ: এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে (কাশি বা হাঁচি) এবং আক্রান্ত প্রাণীর লালা বা প্রস্রাবের মতো তরলের সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়।“হার্ড প্যাড” উপসর্গ: এই রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ হলো প্রাণীর নাক এবং পায়ের পাতা শক্ত ও পুরু হয়ে যাওয়া, যা “হার্ড প্যাড ডিজিজ” নামে পরিচিত।বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকি: কুকুরের মধ্যে এই রোগ সাধারণ হলেও, এটি বাঘ এবং সিংহের মতো শীর্ষ শিকারী প্রাণীদের জন্য বড় হুমকি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বাঘ মানুষের প্রতি স্বাভাবিক ভয় হারিয়ে ফেলে এবং খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়।  
Q. কানা টাইগার রিজার্ভের প্রেক্ষিতে নিচের বিবৃতিগুলো বিবেচনা করুন:
1. এটি বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল যেখানে হার্ড-গ্রাউন্ড বারাসিংহা (Cervus duvauceli branderi) পাওয়া যায়।
2. ভৌগোলিকভাবে এই রিজার্ভটি বিন্ধ্য পর্বতমালায় অবস্থিত।
3. বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে কানা ছিল ভারতের প্রথম টাইগার রিজার্ভ যারা আনুষ্ঠানিকভাবে একটি 'ম্যাসকট' চালু করে।
উপরের বিবৃতিগুলোর মধ্যে কয়টি সঠিক?
(a. মাত্র একটি
(b) মাত্র দুটি
(c) তিনটিই সঠিক
(d) কোনটিই নয়
সমাধান:
উত্তর: (b) মাত্র দুটি
• বিবৃতি 1 সঠিক: কানা টাইগার রিজার্ভ সত্যিই হার্ড-গ্রাউন্ড বারাসিংহার বিশ্বের শেষ জনসংখ্যা এবং একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল।
• বিবৃতি 2 ভুল: রিজার্ভটি বিন্ধ্য নয়, বরং সাতপুরার মাইকাল রেঞ্জে অবস্থিত।
• বিবৃতি 3 সঠিক: সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য "ভুরসিং দ্য বারাসিংহা" নামক ম্যাসকট চালু করে এটি ভারতে ইতিহাস গড়েছিল।