প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি ভারত Foreign Trade Policy (FTP), 2023-এ সংশোধন এনে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের Section 301 তদন্ত এবং এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ভারতীয় রপ্তানির ওপর প্রস্তাবিত ১২.৫% শুল্ক (Tariff)-এর প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশোধনের প্রধান দিকগুলি
- আমদানি নিষেধাজ্ঞা: FTP 2023-এ নতুন Paragraph 2.20B সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—
“জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে উৎপাদিত বা প্রস্তুতকৃত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ।”
- কার্যকর হওয়ার সময়সীমা: Official Gazette-এ (১৩ জুলাই, ২০২৬) প্রকাশের ৩০ দিন পর থেকে এই বিধান কার্যকর হবে।
- তদন্ত ও প্রয়োগ ব্যবস্থা: ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর তদন্তের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারবে। তদন্তের বিস্তারিত পদ্ধতি Handbook of Procedures, 2023 অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
- আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা: এই সংশোধনে “Forced Labour”-এর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) Forced Labour Convention, 1930 (Convention No. 29) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
পটভূমি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
- USTR-এর Section 301 তদন্ত: জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ভারতসহ একাধিক দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র Section 301-এর অধীনে তদন্ত শুরু করে এবং শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়।
- নীতিগত পরিবর্তন: এই সংশোধনের মাধ্যমে ভারত শুধু দেশীয় শ্রম আইননির্ভর ব্যবস্থা থেকে সরে এসে বাণিজ্যভিত্তিক আমদানি নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (Global Supply Chain)-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে ভারতের Foreign Trade Policy (FTP)-কে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।
| আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization – ILO) ও কনভেনশন নং ২৯ পরিচিতি প্রতিষ্ঠা: ১৯১৯ ১৯৪৬ সালে এটি জাতিসংঘের (UN) প্রথম বিশেষায়িত সংস্থা (Specialized Agency)-এ পরিণত হয়। সদর দপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড। বিশেষ বৈশিষ্ট্য: ILO-এর একটি অনন্য ত্রিপক্ষীয় (Tripartite) কাঠামো রয়েছে, যেখানে সরকার, নিয়োগকর্তা (Employers) এবং শ্রমিক (Workers)—এই তিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব থাকে। গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনসমূহ কনভেনশন নং ২৯ (Forced Labour Convention, 1930): সকল ধরনের জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রম (Forced or Compulsory Labour) বিলোপের আহ্বান জানায়।কনভেনশন নং ১০৫ (Abolition of Forced Labour Convention, 1957): নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করার বিধান দেয়। ভারত কনভেনশন নং ২৯ এবং কনভেনশন নং ১০৫—উভয়টিই অনুমোদন (Ratify) করেছে। |
ভারতে বাণিজ্য ও শ্রমমান (Trade and Labour Standards) সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলি বিবেচনা করুন:
I. ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT) অর্থ মন্ত্রকের অধীন একটি সংবিধিবদ্ধ (Statutory) সংস্থা।
II. ভারত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) Forced Labour Convention, 1930 (Convention No. 29) অনুমোদন (Ratify) করেছে।
III. ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ (Article 23) স্পষ্টভাবে বেগার (Begar) এবং অন্যান্য ধরনের জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) নিষিদ্ধ করেছে।
উপরের কোন বিবৃতিটি/বিবৃতিগুলি সঠিক?
A) I এবং II শুধুমাত্র
B) II এবং III শুধুমাত্র
C) I এবং III শুধুমাত্র
D) I, II এবং III
সঠিক উত্তর: B) II এবং III শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা
বিবৃতি I — ভুল
• DGFT কোনো সংবিধিবদ্ধ (Statutory) সংস্থা নয়।
• এটি বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক (Ministry of Commerce and Industry)-এর অধীন একটি Attached Office, অর্থ মন্ত্রকের অধীন নয়।
বিবৃতি II — সঠিক
• ভারত ILO-এর Forced Labour Convention, 1930 (Convention No. 29)-এ স্বাক্ষর করেছে এবং তা অনুমোদন (Ratify) করেছে।
বিবৃতি III — সঠিক
• ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩ (Article 23) মানবপাচার, বেগার (Begar) এবং অন্যান্য অনুরূপ জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি একটি মৌলিক অধিকার (Fundamental Right)।