প্রেক্ষাপট
- সম্প্রতি ‘Nature Communications’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় মঙ্গল গ্রহে “Zwan-Wolf effect” বা জোয়ান-উলফ প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা MAVEN মিশনের তথ্য ব্যবহার করে আবিষ্কার করেছেন যে, এই প্রভাবটি মঙ্গলের মতো যেসব গ্রহের শক্তিশালী বিশ্বব্যাপী চুম্বকীয় ক্ষেত্র নেই, তাদের সঙ্গে সৌর বায়ুর (solar wind) মিথস্ক্রিয়ার ধরন পরিবর্তন করে দেয়।
- ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি শক্তিশালী সৌর ঝড় বা Coronal Mass Ejection (CME) মঙ্গল গ্রহে আঘাত হানে। এটি মঙ্গলের দুর্বল চুম্বকীয় ক্ষেত্রে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যা বিজ্ঞানীদের এই বিরল জোয়ান-উলফ প্রভাব শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে।
১. জোয়ান-উলফ প্রভাব কী?
- মঙ্গলে এই জোয়ান-উলফ প্রভাবটি লক্ষ্য করা গেছে, যা মূলত তখন ঘটে যখন আয়নোস্ফিয়ারের (ionosphere) কণাগুলো সৌর বায়ু দ্বারা নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়।
- এটি কীভাবে ঘটে?
- সীমানায় সংকোচন: চুম্বকীয় সৌর বায়ু যখন কোনো গ্রহের চুম্বকীয় ক্ষেত্র বা প্লাজমা সীমানার (plasma boundary) কাছে পৌঁছায়, তখন গ্রহের চুম্বকীয় সীমানার নিকটবর্তী অঞ্চলে এটি তীব্র সংকোচনের সম্মুখীন হয়।
- চাপের নতিমাত্রা তৈরি: এই সংকোচনের ফলে চুম্বকীয় বলরেখা বরাবর একটি খাড়া চাপের নতিমাত্রা (pressure gradient) তৈরি হয়।
- ডাইভার্টার মেকানিজম: এই চাপের নতিমাত্রা একটি “stream diverter” হিসেবে কাজ করে, যা আধানযুক্ত কণাগুলোকে সংকুচিত করে এবং কেন্দ্রীয় প্রবাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
- নিট ফলাফল: এর ফলে প্রবাহের সীমানার কাছাকাছি একটি অঞ্চল তৈরি হয় যেখানে আধানযুক্ত কণার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে—একে জোয়ান-উলফ প্রভাব বলা হয়।
- পৃথিবীর ক্ষেত্রে এই মেকানিজমটি সৌর বায়ুর অধিকাংশকে বিচ্যুত করে আমাদের সূর্যের ক্রমাগত বোমাবর্ষণ থেকে রক্ষা করে।
২. MAVEN মিশন সম্পর্কে
- সংস্থা: এটি ২০১৩ সালে NASA কর্তৃক উৎক্ষেপণ করা হয়।
- উদ্দেশ্য: মঙ্গলের উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল, আয়নোস্ফিয়ার এবং সূর্য ও সৌর বায়ুর সঙ্গে এর সুনির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া অন্বেষণ করা।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গল অভিযান
| মহাকাশ অভিযান | দেশ / মহাকাশ সংস্থা |
| Viking 1 | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / NASA |
| Mars Orbiter Mission (MOM) / মঙ্গলযান | ভারত / ISRO |
| Perseverance (Mars 2020) | মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র / NASA |
৩. করোনাল মাস ইজেকশন (CMEs) বোঝা
- Coronal Mass Ejection (CME) হলো সূর্যের করোনা থেকে মহাকাশে চুম্বকীয় প্লাজমা এবং সৌর বায়ুর একটি বিশাল নির্গমন।
- এগুলো কোনো গ্রহকে আঘাত করলে তীব্র মহাকাশীয় আবহাওয়া সৃষ্টি হয়, যা পৃথিবীতে ভূ-চুম্বকীয় ঝড় (geomagnetic storms) তৈরি করে এবং মঙ্গলের মতো দুর্বল-চুম্বকীয় গ্রহের আয়নোস্ফিয়ারিক ঘনত্বকে মারাত্মকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
- পৃথিবী এবং প্রযুক্তির ওপর প্রভাব:
- ভূ-চুম্বকীয় ঝড়: CMEs পাওয়ার গ্রিড ব্যাহত করতে পারে এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ক্ষতি করতে পারে।
- যোগাযোগ ও নেভিগেশন: এগুলো আয়নোস্ফিয়ারকে বিঘ্নিত করে রেডিও যোগাযোগ এবং GPS সিগন্যালকে প্রভাবিত করে।
- মহাকাশ সম্পদ: স্যাটেলাইট এবং মহাকাশচারীরা ক্ষতিকারক বিকিরণের সম্মুখীন হন।
- অরোরা: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ফলে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে মেরুজ্যোতি (Auroras) তৈরি হয়।
Q. “সংবাদ শিরোনামে আসা 'জোয়ান-উলফ প্রভাব' (Zwan-Wolf effect) মূলত নিচের কোনটির সঙ্গে যুক্ত?”
(a) ব্ল্যাক হোল বিকিরণ
(b) গ্রহের চুম্বকীয় সীমানার সঙ্গে সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়া
(c) গ্রহাণু গঠন
(d) চন্দ্রগ্রহণ
উত্তর: (b)
ব্যাখ্যা: এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে সৌর বায়ু দ্বারা সৃষ্ট চাপের নতিমাত্রার ফলে একটি গ্রহের আয়নোস্ফিয়ারের বৈদ্যুতিক আধানযুক্ত কণাগুলো চুম্বকীয় কাঠামোর সঙ্গে সংকুচিত হয়।